শেরপুর প্রতিনিধি:
মৃগী নদীর ভাঙ্গনে শেরপুর পৌরসভার দু’টি ওয়ার্ডের অর্ধশত বাড়িঘর নদীগর্ভে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষরা। ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তারা মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন। জানা গেছে, খরস্রোতা পাহাড়ি মৃগী নদীটি শেরপুর পৌরসভা সীমানা বরাবর বয়ে গেছে। নদীর এক প্রান্তে পৌরসভার ৪নং ও ৬নং ওয়ার্ডের সড়কের পাশ দিয়ে শতাধিক বাড়িঘর, কবরস্থান ও মসজিদ রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতিবছরের ন্যায় মৃগী নদীর পানির তোড়ে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কসবা কাঠগর নামাপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর এবং গাছপালা নদী গর্ভে চলে গেছে। পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডর শেরী ব্রিজ মোড় থেকে ৬নং ওয়ার্ডের কসবা কাঠগর নামাপাড়া পুরাতন মসজিদ মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ পৌরসভার সড়কটির মাঝখানে নদী গর্ভে চলে গেছে। যেকোনো সময় ওই সড়কের বাকি অংশ নদী গর্ভে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে আশপাশের আরো কয়েকটি বাড়িঘর,স্থানীয় একটি কবরস্থান ও একটি মসজিদও ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে। কাঠগর নামাপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী মাসুদ মিয়া জানান, প্রতিবছরই এই নদীর ভাঙ্গন হচ্ছে। গত ৭ দিন আগে আমার রান্নার ঘরটি নদী গর্ভে চলে গেছে এখন থাকার ঘরটিও হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিবছর আমরা এই ভাঙ্গন ঠেকাতে পৌরসভা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না। একই এলাকার জামাল মিয়া জানান, বর্ষার সময় বিশেষ করে নদী ভাঙ্গনের সময় পৌরসভা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে আশ্বাস দিয়ে যায়। কিন্তু বর্ষা চলে গেলেই ওই আশ্বাসের কথা ভুলে যায় তারা। ফলে আমাদের ভোগান্তি কমছে না। বর্ষার সময় বিশেষ করে নদীতে যখন ঢলের পানি নেমে যায় এবং পানি কমে যায় তখন ভাঙ্গনের কবলে পড়ে আমাদের ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ ও গাছপালা। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিমুজ্জামান বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি শুনেছি, সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।