
গ্রাম থেকে শহর দেশের নানা প্রান্তে দিন দিন অনলাইনে জুয়াড়ির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সারা দেশের তরুণ-তরুণীরা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ এখন অনলাইনে বাজিতে জড়িয়ে পরছে। ফুটপাতের চা দোকানি, সেলুন দোকানদার, হকার, বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী, বিক্রয়কর্মী, বাস-ট্রাকের চালক-হেলপার, সিএনজি চালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুর শ্রেণির মতো একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষরাও এখন অনলাইনে জুয়া খেলছে। পাঁচ, দশ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই শ্রেণির মানুষরা বাজি ধরে থাকে। প্রতিনিয়ত এই এভাবেই নিঃস্ব হচ্ছে এসকল সাধারণ মানুষ। অনলাইনে জুয়া আসক্ত হওয়ার কিছু কারণও রয়েছে যেমন, ডিজিটাল প্লাট ফরমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে অথবা পরিচিতজনের মাধ্যমে মোবাইলে খেলা শুরু করে, যা অল্প দিনে নেশায় পরিণত হয়। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলেই দেখা যাবে দেশের কোনো তারকা বলছেন, ‘ঘরে বসে পুঁজি ছাড়াই আয় করতে চান? তাহলে এই অ্যাপে গেম খেলুন আর জিতে নেন লাখ লাখ টাকা। এ ছাড়াও জুয়ার প্রচারণায় কম্পিউটারের দোকানে বা ঘরে বসে কাজ করছে স্থানীয় কিছু এজেন্টরা। এভাবেই অনলাইন ব্যবহারকারী অনেকেই অনলাইন জুয়া আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনলাইনে গেমের মাধ্যমে অবৈধ টাকা আয় করে এজেন্টরা কোটিপতি বনে গেলেও সাধারণ জুয়াড়িরা লাখ লাখ টাকা হেরে নিঃস্ব হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জুয়ার নেশায় ব্যবসায়ী ব্যবসার মূলধন দিয়ে়, কৃষকের সন্তান জায়গাজমি, বসতবাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে জুয়া খেলছে। কেউ জুয়ার টাকা জোগাতে ধারদেনা, চুরিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে পরিবারে মানসিক অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বাজার কত টাকার, তার সঠিক হিসাব নেই। তবে দেশের কত মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত, তার একটি আনুমানিক হিসাব গত সরকারের সময় পাওয়া গিয়েছিল। সেই হিসাবে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে গত বছরের ২০ জুন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে অবৈধ অনলাইন বাজির বাজার বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মতো অর্থ সংগ্রহ করে। বাংলাদেশে ক্যাসিনো সংস্কৃতি ২০১৯ সালে আলোচনায় আসে, যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীর বেশ কয়েকটি অবৈধ ক্যাসিনোয় অভিযান চালায়। এরপর থেকেই নিষিদ্ধ অনলাইন ক্যাসিনোর দিকে ঝুঁকেছেন অনেকে। গত কয়েক বছরে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে ক্যাসিনোর বিজ্ঞাপন বেড়ে যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে এটি আরও জনপ্রিয় হয়েছে। এখানে ঝুঁকে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকেরা। এসব জুয়ার টাকা বেশির ভাগ লেনদেন হয়ে থাকে বিকাশ ও নগদে। তরুণসমাজকে এর কবল থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে অনলাইনে জুয়ার বিজ্ঞাপন বন্ধের যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা মনে করি। অনলাইন জুয়াকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সেই সাথে অনলাইন জুয়া বন্ধে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হতে হবে।